যুক্তরাষ্ট্র   শনিবার ১৩ জুন ২০২৬, শনিবার ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

যুক্তরাজ্যে পাচার হওয়া ২৫ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ জব্দ, শিগগিরই দেশে আনা হবে

এখন বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯ জুন ২০২৬, ০৫:২০ AM

২১
যুক্তরাজ্যে পাচার হওয়া ২৫ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ জব্দ, শিগগিরই দেশে আনা হবে

বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ ফেরত আনার প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যে পাচার হওয়া প্রায় ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে শিগগিরই তা দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদের নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ তথ্য জানান।

গভর্নর বলেন, স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, খেলাপি ঋণ কমানো, দুর্বল ব্যাংকের পুনর্গঠন এবং ডিজিটাল আর্থিক সেবার সম্প্রসারণ নিয়েও কাজ চলছে।

সাক্ষাতে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও ‘নিউ এজ’ সম্পাদক নূরুল কবীর, সাধারণ সম্পাদক ও ‘বণিক বার্তা’ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, ‘দি ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস’ সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, ‘মানবজমিন’ সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, ‘প্রথম আলো’ সম্পাদক মতিউর রহমান, ‘ইনকিলাব’ সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, ‘সমকাল’ সম্পাদক শাহেদ মোহাম্মদ আলী এবং ‘দৈনিক আগামীর সময়’ সম্পাদক মোস্তফা মামুন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নররাও উপস্থিত ছিলেন।

গভর্নর জানান, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে ইতোমধ্যে কিছু প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনাগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। কোর ব্যাংকিং সিস্টেম (সিবিএস) উন্নয়ন ও সমন্বয়ের কাজ শেষ হলে পুনর্গঠন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি বড় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

খেলাপি ঋণ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে অর্থঋণ আদালত আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও গভর্নর জানান। পাশাপাশি আদায় অযোগ্য ঋণ ব্যবস্থাপনার জন্য ‘ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি অ্যাক্ট’ প্রণয়নের কাজ চলছে।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকিং খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে পেশাদারিত্ব, জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিত করাই বর্তমান সংস্কার কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

ডিজিটাল আর্থিক খাত প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, সমন্বিত ডিজিটাল আর্থিক ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে কাজ চলছে। এর আওতায় ডিজিটাল ন্যানো-ঋণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ঋণ মূল্যায়ন এবং ক্রেডিট ব্যুরো আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান আইডেন্টিটি, ওয়ান ওয়ালেট’ ধারণা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা আরও বিস্তৃত করা হবে। ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহারের মাধ্যমে ক্যাশলেস লেনদেন সম্প্রসারণ এবং লেনদেন রিপোর্টিং ব্যবস্থার উন্নয়নে রাজস্ব আহরণ বাড়বে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিদেশে চিকিৎসার জন্য অতিরিক্ত বৈদেশিক মুদ্রা প্রয়োজন হলে ব্যাংকের মাধ্যমে দ্রুত অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে বলেও গভর্নর জানান। পাশাপাশি ইউপাস এলসির বিল ডিসকাউন্টিংয়ের সুদহার হ্রাসের ফলে আমদানি পণ্যের দাম কমাতে সহায়তা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সাক্ষাৎকালে সম্পাদক পরিষদের সদস্যরা ব্যাংকিং খাতের বিভিন্ন বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন। উভয় পক্ষ দেশের আর্থিক খাতের টেকসই উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!