২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও ব্যবসাবান্ধব একটি ‘ক্রিয়েটিভ’ বাজেট হিসেবে অভিহিত করেছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর মতে, সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কল্যাণের কথা বিবেচনায় রেখেই এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে নিজের কার্যালয়ে বাজেট-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এ বাজেট মূলত উৎপাদনবান্ধব, বিনিয়োগবান্ধব এবং ব্যবসাবান্ধব। বিভিন্ন খাতে যে করছাড় ও প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে, তা অতীতে খুব কমই দেখা গেছে।’
তিনি বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন খাতে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতি দ্রুত গতিশীল হবে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
মির্জা ফখরুলের ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান–এর নির্দেশনা ও দিকনির্দেশনার ভিত্তিতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ বাজেট প্রণয়ন করেছেন। এতে দেশের অর্থনীতিকে পুনর্গঠন এবং প্রবৃদ্ধির গতি ফিরিয়ে আনার আন্তরিক প্রচেষ্টা প্রতিফলিত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমি একে সম্পূর্ণ একটি ক্রিয়েটিভ বাজেট বলব। এখানে এমন কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা আগে কল্পনাও করা হতো না।’
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আগামী অর্থবছরে প্রায় ৪১ লাখ পরিবারের নারীপ্রধান সদস্যের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড, সেচব্যবস্থা উন্নয়ন, খাল পুনঃখনন, মৎস্যচাষ সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
দেশীয় উৎপাদন ও বিনিয়োগে উৎসাহ দিতে নানা ধরনের কর রেয়াত ও প্রণোদনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে কিছু আমদানিপণ্যের ওপর কর আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
বাজেটে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ ধারণাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, খেলাধুলা, সংস্কৃতি, হস্তশিল্প ও লোকজ পণ্যকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের মাসিক সম্মানী, নতুন কুঁড়ি ক্রীড়া আয়োজন, আন্তঃস্কুল ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং ৬৪ জেলায় ক্রীড়া ভিলেজ প্রতিষ্ঠার মতো উদ্যোগ নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
এ ছাড়া একটি গ্রাম একটি পণ্য কর্মসূচির আওতায় মৃৎশিল্প, বুননশিল্প, শীতলপাটি, শতরঞ্জিসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী পণ্যের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। রাজধানীর পূর্বাঞ্চলে বিশ্বমানের ‘ক্রিয়েটিভ হাব’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাকেও তিনি ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
কর ব্যবস্থাপনা সহজীকরণ, কাস্টমসের অটোমেশন, করদাতার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং রপ্তানিমুখী শিল্পে শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির সুবিধা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, এসব পদক্ষেপ বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হবে।
তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, এই বাজেট বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করবে।’
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তিনি বলেন, উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং মূল্যস্ফীতিও স্বাভাবিকভাবেই কমে আসবে।
আরএস-রাসেল
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!