প্রাণিসম্পদের রোগ প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করে দেশের প্রাণিসম্পদ খাতকে সমৃদ্ধ করার কথা বলেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেছেন, খামারিদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং গবাদিপশুর রোগ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে এই খাত দেশের অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।
শুক্রবার টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ফতেপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) উদ্ভাবিত লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনেক খামারির প্রাণিসম্পদের বিভিন্ন রোগ সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান নেই। ফলে রোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় তারা নানা সমস্যার মুখোমুখি হন। এ কারণে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের খামারিদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিনামূল্যে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল বিতরণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বল্প ব্যয়ে লাভজনক হওয়ায় ছাগল পালন গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, গরু ও ছাগল থেকে প্রাপ্ত দুধ ও মাংস দেশের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। তাই প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন ও খামারিদের কল্যাণে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বর্তমান ক্যাম্পেইনের আওতায় প্রায় দুই হাজার গবাদিপশুকে এলএসডি রোগের টিকা দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে সদর উপজেলার সব গবাদিপশুকে টিকাদানের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠিতে বক্তারা জানান, বিদেশি এলএসডি ভ্যাকসিনের প্রতি ডোজে প্রায় ৩০০ টাকা ব্যয় হলেও বিএলআরআই উদ্ভাবিত দেশীয় ভ্যাকসিনের উৎপাদন ব্যয় মাত্র ৫০ টাকা। বর্তমানে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এই ভ্যাকসিন উৎপাদন ও মাঠপর্যায়ে সরবরাহ করছে।
বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শাকিলা ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান।
এ সময় টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদিল হক সানুসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা ও খামারিরা উপস্থিত ছিলেন।
আরএস-রাসেল
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!