ক্যাপাসিটি চার্জের নামে আগের সরকারের সময়ে করা বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন চুক্তির কারণে রাষ্ট্রকে বড় ধরনের আর্থিক বোঝা বহন করতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, এসব চুক্তি আইনি ও চুক্তিগতভাবে সংবেদনশীল হওয়ায় সরকার বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।
শুক্রবার রাজধানীতে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি) এবং ন্যাশনাল লোড ডিসপ্যাচ সেন্টার (এনএলডিসি) পরিদর্শন শেষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘ক্যাপাসিটি চার্জের নামে আগের সরকার বড় ধরনের আর্থিক বোঝা রেখে গেছে। তবে নতুন সরকার চাইলেই রাতারাতি সবকিছু পরিবর্তন করতে পারে না। বিষয়গুলো আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।’ তিনি জানান, আইন মন্ত্রণালয় বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছে এবং বিদ্যমান চুক্তিগুলো পুনর্মূল্যায়নের কাজ চলছে।
বিদ্যুৎ খাতের সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলে ধরে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, উৎপাদন ও সঞ্চালন সক্ষমতা বাড়লেও বিতরণব্যবস্থার উন্নয়ন একই গতিতে হয়নি। ফলে অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন এবং দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, অতীতে অপরিকল্পিতভাবে বিতরণ লাইন সম্প্রসারণের কারণে নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে। এসব সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত করণীয় নির্ধারণের জন্য পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পরিদর্শনকালে জাতীয় গ্রিডের সিস্টেম প্রটেকশন ও মিটারিং সার্কেলের আওতায় নির্মিত ‘প্রটেকশন অ্যান্ড অটোমেশন ল্যাব’ উদ্বোধন করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, এই ল্যাব জাতীয় গ্রিডের ফল্ট ও ডিস্টার্বেন্স বিশ্লেষণ এবং আধুনিক সুরক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপদ পরিচালনা ও জাতীয় গ্রিডের নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধিতে এর ভূমিকা থাকবে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট আগামী নভেম্বরে চালুর লক্ষ্য সামনে রেখে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সভায় পিজিসিবির কর্মকর্তারা জানান, ঢাকা ও আশপাশের ঘোড়াশাল, হরিপুর, সিদ্ধিরগঞ্জ, মেঘনাঘাট, ময়মনসিংহ ও আশুগঞ্জ অঞ্চলের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো গেলে জাতীয় গ্রিড আরও দক্ষ ও সাশ্রয়ীভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
তাঁরা আরও জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ নিরাপদভাবে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ ও পরিচালন সক্ষমতা উন্নয়নের কাজ এগিয়ে চলছে।
ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সভায় জানানো হয়, চলতি বছরের মধ্যে শম্ভুগঞ্জ ও টাঙ্গাইল গ্রিড উপকেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট সঞ্চালন লাইন চালু হলে ওই অঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে।
আরএস-রাসেল
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!