যুক্তরাষ্ট্র   শনিবার ১৩ জুন ২০২৬, শনিবার ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বোরি-তে অনিয়ম ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ: একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি

এখন বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:২৯ AM

১৬
বোরি-তে অনিয়ম ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ: একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট (বোরি)-এ ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে গবেষণা কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি, প্রশাসনিক কাজে হস্তক্ষেপ এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিশৃঙ্খলা তৈরির অভিযোগ উঠেছে। সাম্প্রতিক অনুসন্ধান ও বিশ্বস্ত সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়গুলো উঠে এসেছে।    

একাধিক সূত্র ও বোরি সম্পর্কিত বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় যে, ফ্যাসিস্ট সরকারের ঘনিষ্ট হিসাবে পরিচিত সাবেক মহাপরিচালক ও মৎস্য সচিব (অপসারিত) সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দারের দায়িত্বকালে ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মকর্তাকে অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁদের একটি অংশ পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ, আউটসোর্সিং ও কেনাকাটাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আরও বলা হয় যে, পরবর্তী সময়ে সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক তৌহিদা রশীদের দায়িত্বকালেও ওই গ্রুপ সক্রিয় ছিল এবং বিভিন্ন নিয়োগ ও ক্রয় কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ ঊঠে। তবে সে সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।  

প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া প্রিন্সিপ্যাল সায়েন্টিফিক অফিসার মো. হাসিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে গবেষণা প্রকল্পে অনিয়ম, নিলাম কার্যক্রমে দুর্নীতি, ঘুষ গ্রহণ, নিয়োগ ও পদোন্নতি কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ এবং বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। যার প্রমাণক প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি বিধিমালা লঙ্ঘন করে ব্যবসা পরিচালনা ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগও পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তিনি প্রায়শই আউটসোর্সিং কর্মচারীদের চাকুরি খাওয়ার হুমকি দেন। তাঁর বিরুদ্ধে নিজের বিভাগ ব্যতীত অন্যান্য বিভাগের অভ্যন্তরীণ গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমেও হস্তক্ষেপের অভিযোগ রয়েছে। এতে প্রশাসনিক ও গবেষণা কার্যক্রমে বিশৃংখলা সৃষ্টি হচ্ছে এবং প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী চরমভাবে বিরক্ত। যার দরুন অপার সম্ভাবনার এই প্রতিষ্ঠানের গবেষণা কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায় যে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নতুন মহাপরিচালক দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হলে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করে। গবেষণা কার্যক্রমে জিপিএস ট্র্যাকিং চালু, কেনাকাটায় কড়াকড়ি এবং প্রশাসনিক সংস্কার কার্যক্রমের কারণে ফ্যাসিস্টের দোসররা পুনরায় সংগঠিত হয়েছে এবং সরকারের উন্নয়ন কাজে বাঁধা সৃষ্টি, প্রশাসনিক কাজে হস্তক্ষেপ এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে।  

এ ছাড়া মেডিক্যাল টেকনিশিয়ান সাগর দত্ত, ট্রান্সপোর্ট সুপারভাইজার শাহরাজ মো. মিনারুল ইসলাম এবং রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট অনামিকা শর্মার বিরুদ্ধেও বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম, অপপ্রচার ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায় যে, মেডিক্যাল টেকনিশিয়ান সাগর দত্তের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার গ্রেফতারি ওয়ারেন্ট জারী হওয়ার পরও প্রভাব কাটিয়ে বহাল তবিয়তে চাকুরিতে রয়েছেন সে বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী হতবাক। এ ছাড়া, সাগর দত্তের বিরুদ্ধে অনুমোদন ব্যতিরেকে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পূর্ণকালীন চাকুরির অভিযোগ রয়েছে। সে প্রতিনিয়ত সামাজিক মাধ্যম ও অনলাইনে ভুয়া নিউজ ও অপতথ্য, কুৎসা রটনা করেন এবং তিনি প্রায়শই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মিথ্যা সংবাদের মাধ্যমে ফাঁসিয়ে দেয়ার ভয় দেখান। বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান এসব কর্মকাণ্ডের কারণে গবেষণার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী হয়রানির শিকার হচ্ছেন। 

বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া অনিয়মের বিষয়গুলো নিয়মানুযায়ী প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্তপূর্বক অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি রাখে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!