জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ এ স্টিল শিল্পের ওপর প্রস্তাবিত অতিরিক্ত ভ্যাট, শুল্ক ও করের কারণে প্রতি মেট্রিক টনে মোট ব্যয় ১১ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসএমএ)।
বুধবার (১৭ জুন) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এ আশঙ্কার কথা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দেশের স্টিল শিল্প বর্তমানে অত্যন্ত কঠিন ব্যবসায়িক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশে স্টিলের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৫০ লাখ মেট্রিক টন হলেও উৎপাদন সক্ষমতা ১ কোটি মেট্রিক টনের বেশি। ফলে অধিকাংশ কারখানা ৫০ শতাংশেরও কম সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে, যা উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে শিল্পকে আর্থিক চাপে ফেলেছে।
তিনি জানান, সাম্প্রতিক বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রতি মেট্রিক টন স্টিল উৎপাদনে অতিরিক্ত ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা ব্যয় যুক্ত হয়েছে। এছাড়া বন্দর চার্জ, রিভার ডিউজ, ল্যান্ডিং চার্জ, পরিবহন ব্যয় এবং অন্যান্য অপারেশনাল খরচ বৃদ্ধির কারণে আরও প্রায় ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় যোগ হয়েছে।
বিএসএমএর মতে, প্রস্তাবিত বাজেটে বিক্রয় পর্যায়ে ভ্যাট বৃদ্ধি, স্থানীয় স্ক্র্যাপের ওপর অতিরিক্ত ভ্যাট, ফেরো-অ্যালয়, রিফ্যাক্টরি সামগ্রী, স্পেয়ার পার্টসের ওপর রেগুলেটরি ডিউটি (আরডি), উৎসে কর (টিডিএস) এবং অন্যান্য কর-শুল্ক বৃদ্ধির ফলে প্রতি মেট্রিক টনে আরও ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা ব্যয় বাড়বে।
সংগঠনটির দাবি, বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি ও নতুন কর-শুল্ক কাঠামোর সম্মিলিত প্রভাবে প্রত্যক্ষ উৎপাদন ব্যয় প্রতি টনে ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে কম চাহিদা ও উৎপাদন সক্ষমতার অর্ধেকেরও কম ব্যবহারের কারণে ওভারহেড, ব্যাংক সুদ এবং স্থায়ী ব্যয়ের চাপ বেড়ে প্রতি টনে আরও ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা পরোক্ষ ব্যয় সৃষ্টি হয়েছে। ফলে মোট অতিরিক্ত ব্যয় দাঁড়াতে পারে ১১ থেকে ১২ হাজার টাকা।
তবে বাজেটে ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে বিএসএমএ। সংগঠনটি বলেছে, ন্যূনতম কর সংক্রান্ত কিছু বিধান বিলুপ্ত করা, আপিল ও হাইকোর্ট রেফারেন্সের ক্ষেত্রে অগ্রিম কর জমার হার কমানো, বিদেশি ঋণের সুদের ওপর উৎসে কর হ্রাস এবং বিদ্যুৎ বিক্রির বিলের ওপর উৎসে কর কমানোর মতো সিদ্ধান্ত ব্যবসা সহজীকরণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএসএমএ সরকারের প্রতি স্টিল শিল্পের ওপর প্রস্তাবিত অতিরিক্ত ভ্যাট, শুল্ক ও কর পুনর্বিবেচনা করে প্রত্যাহারের আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে বিক্রয় পর্যায়ের ভ্যাট ও স্থানীয় স্ক্র্যাপের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ভ্যাট প্রত্যাহার, উৎপাদন সংশ্লিষ্ট কাঁচামালের ওপর অতিরিক্ত কর-শুল্ক পুনর্বিবেচনা এবং টার্নওভার ট্যাক্স ১ শতাংশের পরিবর্তে পূর্বের মতো ০.৬ শতাংশ নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।
এছাড়া উন্নয়ন বাজেট দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে অবকাঠামো ও মেগা প্রকল্পের কাজ ত্বরান্বিত করে স্টিলসহ সংশ্লিষ্ট শিল্পখাতে পণ্যের চাহিদা বাড়ানোর আহ্বান জানায় সংগঠনটি।
বিএসএমএর সভাপতি বলেন, দেশের শিল্পখাতকে শক্তিশালী করেই রাজস্ব বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা সম্ভব। স্টিল শিল্পকে টিকিয়ে রাখা মানে দেশের শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে আরও শক্তিশালী করা।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!